সুনামগঞ্জ , বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬ , ৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শাল্লায় ‘সমন্বয়কের পিআইসি’ : ফসলহানির ঝুঁকির সঙ্গে মানুষের দুর্ভোগ সময় পেরিয়ে গেলেও শেষ হয়নি বাঁধের কাজ, শঙ্কায় কৃষক জনগণের উন্নয়নই বিএনপির মূল লক্ষ্য : প্রধানমন্ত্রী ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতকই থাকছে নদী ও খাল দখলকারীরা সাবধান হয়ে যান : কৃষিমন্ত্রী সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের দায়িত্ব নিলেন মিজানুর রহমান চৌধুরী পণতীর্থে মহাবারুণী স্নান আজ দখল হওয়া খালগুলো উদ্ধার করা হবে সড়কের উন্নয়নকাজে অনিয়মের অভিযোগ ‎মাসব্যাপী কিরাআত প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হাওরের বাঁধ: ‘আমরা আরম্ভ করি শেষ করি না...’ এখন থেকে কোনো ধরনের ঘুষ-দুর্নীতি সহ্য করা হবে না : বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী মিজান চৌধুরী সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের নতুন প্রশাসক শিলা বৃষ্টিতে বোরো ফসল আক্রান্ত, আগাম বন্যার শঙ্কায় কৃষক অপরিকল্পিত ফসল রক্ষা বাঁধে জলাবদ্ধতা, কৃষকের স্বপ্নভঙ্গের শঙ্কা মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আগুনে পুড়ছে প্রবাসী শ্রমিকদের জীবন শান্তিপূর্ণ দেশ গড়ার অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রীর হাওরে আশা-নিরাশার দোলাচল জামালগঞ্জে ব্রিটিশ বাংলা ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের ঈদ উপহার বিতরণ সুনামগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল

পর্যটন বিকাশের নামে টাঙ্গুয়ার হাওর ভয়াবহ দূষণের শিকার

  • আপলোড সময় : ২৯-০৮-২০২৫ ০৯:১২:১১ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৯-০৮-২০২৫ ০৯:১২:১১ পূর্বাহ্ন
পর্যটন বিকাশের নামে টাঙ্গুয়ার হাওর ভয়াবহ দূষণের শিকার
অমূল্য সম্পদ রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন জীববৈচিত্র্যের ভা-ার টাঙ্গুয়ার হাওর আমাদের জলবায়ু, পরিবেশ ও অর্থনীতির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। অথচ দুঃখজনক হলেও সত্য, বর্তমানে পর্যটন বিকাশের নামে এই হাওর ভয়াবহ দূষণের শিকার হচ্ছে। প্রতিদিন হাজারো পর্যটক নৌকা ও হাউসবোট নিয়ে হাওরে ভ্রমণে আসছেন। কিন্তু বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কোনো পরিকল্পনা নেই। প্লাস্টিকের বোতল, খাবারের প্যাকেট, ওয়ান-টাইম প্লাস্টিক এসব অপচনশীল বর্জ্য নিয়মিত পানিতে ফেলা হচ্ছে। এর সাথে যোগ হয়েছে হাউসবোটের রান্নাঘরের জৈব বর্জ্য এবং সবচেয়ে ভয়াবহ হলো- সেফটি ট্যাংক না থাকায় শত শত পর্যটকের পয়ঃবর্জ্য সরাসরি হাওরের পানিতে মিশে যাচ্ছে। এতে পানির মান দ্রুত নষ্ট হচ্ছে, দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে, আর জলজ প্রাণীর জীবনচক্র হুমকির মুখে পড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইঞ্জিনচালিত নৌকার তেল, সাবান-শ্যা¤পু মিশ্রিত পানি এবং প্লাস্টিক একত্রে হাওরের জন্য নীরব ঘাতক হিসেবে কাজ করছে। ইতিমধ্যে অনেক দেশীয় মাছ বিলুপ্ত হয়েছে। একই সাথে পর্যটকদের অসচেতন আচরণের কারণে হাওরের সৌন্দর্যও ক্ষুণœ হচ্ছে। এতে পর্যটনের স্থায়িত্বশীল বিকাশও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আমরা দেখেছি, প্রশাসন নানা সময়ে অভিযান চালালেও তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। কারণ, প্রয়োজনীয় যানবাহন ও সমন্বয়ের অভাব প্রকট। ফলে, যারা হাওর থেকে লাভবান হচ্ছেন, বিশেষ করে হাউসবোট মালিক ও পর্যটন ব্যবসায়ী, তাদের দায়িত্বজ্ঞানহীনতার কারণে প্রকৃতি ধ্বংসের পথে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। এই অবস্থায় আমাদের করণীয় স্পষ্ট- ১. হাউসবোটে সেফটি ট্যাংক ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বাধ্যতামূলক করতে হবে। প্রয়োজনে ডাম্পিং স্টেশন স্থাপন করা জরুরি। ২. প্লাস্টিক নিষিদ্ধ করতে হবে। বিকল্প পরিবেশবান্ধব প্যাকেট ও কাপ ব্যবহারের ব্যবস্থা করতে হবে। ৩. সচেতনতা কার্যক্রম বাড়াতে হবে। পর্যটক ও স্থানীয়দের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। ৪. প্রশাসনের অভিযান নিয়মিত করতে হবে। ৫. স্থানীয় মৎস্যজীবী ও পরিবেশকর্মীদের স¤পৃক্ত করতে হবে। টাঙ্গুয়ার হাওর কেবল প্রাকৃতিক স¤পদ নয়, এটি আমাদের সাংস্কৃতিক ও জাতীয় ঐতিহ্য। আজ যদি আমরা অবহেলা করি, কাল হয়তো আর ফিরিয়ে আনা যাবে না এই জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। তাই সময় এসেছে কথার ফুলঝুড়ি নয়, বরং কঠোর বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়ার।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স